Search Any Post Of WizBD.Com
 HomeUncategorizedভাইরাল কেনো “ভাইরাল মার্কেটিং”

ভাইরাল কেনো “ভাইরাল মার্কেটিং”

চারদিকে ভাইরালের মহোৎসব, আজ এটা ভাইরাল তো কাল ওটা! তবে কোনো প্রোডাক্ট মার্কেটে এসেও ভাইরাল হতে পারে, একটা পণ্য বা কনটেন্ট ভাইরাল তখনই হয় যখন দেখা যায় যে উক্ত বস্তুটির মাঝে এমন কোনো মৌলিক বিশেষত্ব আছে যা একজন ব্যবহারকারী তার বন্ধুদেরও তা ব্যবহার করার আহ্বান জানায়।

এই একই পদ্ধতি অনুসরণ করে ফেসবুক, পেপাল, বিকাশ থেকে শুরু করে আমাদের আধুনিক জমানার নেত্রকোনার রিপন ভিডিও, ফেসবুকের নায়ক হিরো আলমও আজ অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।

প্রতিবার যখনই কেও রিপনের ভিডিও দেখছে ক্ষনিকের আবেগে সে ঐ ভিডিও কোনো বন্ধুদের নিকট শেয়ার করছে তৎক্ষনাৎ সে নিজের অজান্তেই ঐ পণ্য বা কনটেন্টের বিজ্ঞাপনের কাজটি করে দিচ্ছে।

বিজনেস জগতে বহুল ব্যবহৃত এই প্রক্রিয়াটি “ভাইরাল মার্কেটিং” নামে পরিচিত। এটি আপনাকে বা আপনার ব্যবসাকে শুধু স্বল্প খরচেই নয়, সবচেয়ে দ্রুততার সাথে মানুষের মাঝে পরিচিতি লাভ করাতে পারে।

শুরুতেই যে ফেসবুকের কথা বলেছিলাম এবার তার কথায় আসি, প্রাথমিক ত্রিশ দিনে এক মিলিয়ন ইউজার পাওয়া ফেসবুকের যাত্রাটা কিন্তু অতটা সহজ ছিলোনা, শুরুতে তাদের মার্কেটিং স্ট্র‍্যাটেজি কেবল এই ভাইরাল মার্কেটিংই ছিলো।

যখন প্রত্যেকে এক বা একাধিক বন্ধুকে ঐ পণ্য বা সেবার কথা শেয়ার করে তখন নিজের অজান্তেই তার মার্কেটিং এর কাজটা করে দেয়। এবং নতুন এই ব্যবহারকারীরা পুনরায় নতুন কাওকে সেই প্রণ্যেরই গ্রাহক বানাতে সাহায্য করে। যার ফলে এটি এক প্রকার শেকল এর রুপ ধারণ করে। ইউটিউব কিংবা ফেসবুকের কারো বানানো হাস্যকর ভিডিও/ছবি এভাবেই প্রায় লাখ লাখ লোকের কাছে পৌছে যায়।

আধুনিক ফিনটেক (ফিনানশিয়ালি টেকনোলজি)তে এই মার্কেটিং স্ট্র‍্যাটেজির অবদান সবচেয়ে বেশি। ইন্টারনেটভিত্তিক ফিনটেক এর জনক পেপাল আজ বিশ্ব কাপাচ্ছে, তাদের উত্থানের জন্যও ভাইরাল মার্কেটিং এর অবদান কম নয়। ১৯৯৯ সালে যখন ৬বন্ধু মিলে পেপাল কোম্পানি চালু করে তখন তাদের প্রাথমিক কাস্টমার ছিলো মাত্র ২৪ জন। উল্লেখ্য এই চব্বিশজন ছিলো পেপাল অফিসে চাকরি করা লোকজন!!

আমেরিকা, কানাডা সহ পশ্চিমা দেশগুলোয় আপনি চাইলেই যত্রতত্র ব্যানার,বিলবোর্ড ও দেয়ালচিত্র তৈরি করে বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন না। আর অনুমতি নিলেও সে দেশগুলোয় দেশজুড়ে বিজ্ঞাপন দেয়াও বেশ ব্যয়বহুল।

একপর্যায়ে মার্কেটিং জিনিয়াস পিটার থিয়েল (পেপাল সহপ্রতিষ্ঠাতা) অন্য কোনো উপায়ে কাস্টমার বৃদ্ধির দিকে নজর দেন, পেপাল তখনো লাভের মুখ দেখেনি তবুও নতুন কোনো গ্রাহক একাউন্ট খুললেই ২০ডলার খরচ করতে লাগলো পেপাল (যে একাউন্ট খুলবে তার $১০, যে উক্ত ব্যক্তিকে একাউন্ট খুলতে ইনভাইট করবে তার একাউন্টে যোগ হতো $১০)
পেপাল এর ফল পেতে থাকে প্রথম দিন থেকেই, দৈনিক ৭% প্রবৃদ্ধিতে মাত্র ১০ দিনেই গ্রাহক সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েযায় তাদের। এবং কয়েকমাসেই একটি বড় কোম্পানি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার জন্য লক্ষাধিক ব্যবহারকারী হাতে পায়।

প্রায় ২০বছর পর পেপাল আজ মাল্টিবিলিওন ডলারের কোম্পানি। দৈনিক তাদের মোট লেনদেন (৫০ বিলিয়ন) তাদের কোম্পানির মূল্যের চেয়েও কয়েকগুণ বেশি। তাদের সাফল্যের একমাত্র কারণ ভাইরাল মার্কেটিং নয়, ফিনটেক ও সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোর অন্যতম বড় সুবিধা হলো এরা সিঙ্গেল থাকতে পারেনা, সর্বদাই একজন সঙ্গী প্রয়োজন হয়। মানে, ধরুন গ্রামে আপনার আত্মীয়ের কাছে টাকা পাঠাতে চাচ্ছেন, এখন কেবল আপনারই নগদ’এ একাউন্ট থাকলে হবেনা তারও টাকা তোলার জন্য একটি নগদ একাউন্ট থাকতে হবে। এমতাবস্থায় আপনার উছিলায় হলেও আপনার আত্মীয় একটা একাউন্ট খুলে নিলো। এটা ভাইরাল মার্কেটিং এর চেইন রিয়্যাকশন।
একই পদ্ধতি অনুসরণ করে স্বয়ং ফেসবুক কোনো বিজ্ঞাপন দেয়া ছাড়াই মাত্র ত্রিশ দিনেই প্রায় ১০লাখ ব্যবহারকারী পেয়েছিলো।

পরিশেষে, আধুনিক এই যুগে আপনি চাইলেই যেকোনো ব্যবসায়কে লাখো ক্রেতার কাছে নিয়ে যেতে পারবেন, প্রয়োজন শুধু সঠিক ও কার্যকর মার্কেটিং স্ট্র‍্যাটেজি। তবে শুরুর কাস্টমারদের যদি সন্তুষ্ট করতে না পারেন তবে আপনার ব্যবসা বা আপনি মুখ থুবড়ে পড়বেন।
পিটার থিয়েল একদা বলেছিলেন, একটি নিম্ন মানের পন্যও ভাল মার্কেটিং এর সুবাদে প্রাথমিক ভাবে বেশ ভাল বিক্রী হতে পারে, কিন্তু একটি ভাল পন্য খারাপ মার্কেটিং এর কারনে বিক্রী না হয়েও পড়ে থাকতে পারে।

লেখক :- ফয়সাল আরেফিন

2 weeks ago (12:02 pm) 264 views
Report

About Author (106)

Author

নিজে শিখুন এবং অন্যকে শিখতে সাহায্য করুন

Leave a Reply

You must be Logged in to post comment.

Related Posts

Copyright © WizBD.Com, 2018-2019