Search Any Post Of WizBD.Com
 HomeUncategorizedতৃপ্তির নয়, ক্ষোভের ঢেকুর (পর্ব ১)

তৃপ্তির নয়, ক্ষোভের ঢেকুর (পর্ব ১)

আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কখনো সমালোচনা করিনি। কারণ আমি মনে করি, একজন দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছাত্র অনেকটা ছোলাবীজের মতো, শত চাপ থাকা সত্ত্বেও মাটি ভেদ করে ঠিকই অঙ্কুরিত হয়।

ছোলার চারা গজাবার পরে যেমন কার্বন ডাই-অক্সাইড, মাটি, আলো – বাতাস দরকার হয়, ঠিক তেমনই একজন জলজ্যান্ত মানুষকেও বাঁচতে হলেও কিছু বিষয় নিশ্চিত করতে হয়। যেগুলোকে আমরা মৌলিক চাহিদা বলে জানি (খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থান)।
তবে এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে আপনি এই পাঁচটি বিষয় নিয়েই বাঁচতে পারবেননা। টেকনলোজি’ও এখন মৌলিক চাহিদার অন্তর্ভুক্ত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনি এখানে প্রশ্ন করতে পারেন; “কারিগরি জিনিস আবার এইহানে আনার দরকার কি? এইডা ছাড়াও তো মানুষ বাইচ্চা থাকতে পারবো। তুমি কি বইয়ের চে বেশি বুজো?” পাশ থেকে হয়ত একজন চেঁচিয়ে উঠবে, “এই চ্ছেলে, তুমি কি পাশ, দেশের বাড়ি কই……? etc ”

আচ্ছা ভাই, থামেন। মোবাইল, কম্পিউটার, ইন্টারনেট সহ যাবতীয় টেকনোলজি ছাড়া একটা স্বাভাবিক দিন পার কইরেন দেখি… দেখেন ICT আমাদের জীবনকে কিভাবে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রাখছে।

ও হ্যা, শিক্ষাব্যবস্থা দিয়েই তো পোস্ট টা শুরু করেছিলাম। এবার তাহলে একটু কাজের কথায় আসি, স্কুল/কলেজ থেকেই মূলত প্রকৃত শিক্ষা শুরু হয় আমার দেশের সন্তানদের, যদিও মৌলিক চাহিদার কোনো বিষয় পাঠ্যবইয়ে থাকেনা।
`
– কিন্তু কেন?
– বস্তুত মৌলিক চাহিদার বিষয়গুলো প্রকৃতি বা পরিবার থেকেই আমরা শিক্ষা নিই আর এর পরই আমরা স্কুলে পড়তো আসি।
কিন্তু মাত্রই যে বললাম “প্রযুক্তি”র মৌলিক চাহিদা হয়ে ওঠার কথা? সেটা কে শেখাবে? সেটা তো আর প্রকৃতি শেখাত পারেনা। তাহলে কি পরিবার থেকে শিখবো?
পরিবারের ইস্যু আনার আগে একটা বিষয় ক্লিয়ার করা দরকার, আমাদের বাবা-মা, চাচা-চাচী দের জেনারেশন এর সাথে আমাদের জেনারেশন এর প্রযুক্তি জ্ঞানের কত বড় গ্যাপ খেয়াল করেছেন?
`
আমি মাঝে মাঝে ভাবি, বাবা-মা রা আমাদের ছোটবেলায় ২ টাকায় মাস পার করার গল্প শোনাতো, আমরা আমাদের ছেলেমেয়ে দের কি শোনাবো? ফেসবুক / ইন্সটা’র লাইক কমেন্ট এর গল্প?
`
যাকগে, বিংশ শতাব্দীর শেষে গেটস, জ্যাক মা, জেফ বেজোস, ল্যারি পেইজ’ দের গড়া প্রযুক্তি বিপ্লবের কারণে যে জেনারেশন গ্যাপ এর সৃষ্টি হয়েছে তাতে এ বিষয়ে নিশ্চিত ৯৫% এডাল্ট’ই পরিবারের কাছ থেকে এ জ্ঞান নিতে ব্যর্থ ।
`
– তাহলে উপায়?
– আশার কথা, স্কুল কলেজে ICT বই যুক্ত করা হয়েছে, এটাই আপাতত সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক পথ। খুব সুন্দর করে সেখানে বোঝানো হচ্ছে অপটিকাল ফাইবার কি, বাইনারি কি, গেট কি, কম্পিউটার কত প্রকার কি কি! etc.
কিন্তু আফসোসের বিষয়, এই বইগুলো শুধু শেখাচ্ছে “কি” এর উত্তর, শেখাতে পারছেনা (কিংবা কতৃপক্ষ ইচ্ছেকরেই শেখাচ্ছেনা) “কেন” বা “কিভাবে” এর উত্তর।

আচ্ছা, “Internet কি? এটা কিভাবে কাজ করে?” এ প্রশ্নটা যদি জাতির কাছে ছুড়ে দিই ক’জনই বা এর সঠিক উত্তর দিতে পারবে? অধিকাংশই বলবে “ইন্টারনেট একটি জাল”( LoL )
`
এবার আসি HTML এর কাছে, স্কুল কলেজে শিখে এসেছি HTML কি, কিভাবে ওয়েব পেজ বানাতে হয়।কিন্তু কিভাবে HTML ব্যবহার করে & ডোমেইন কিনে একটি ওয়েবসাইট বানাতে হয় সেটা কি কখনো শিখিয়েছে? কখনো কি Blogger কিংবা WordPress কে আমাদের চেনানো হয়েছে?
`
আমার আফসোস হয় যখন দেখি, University Admission Test এর সময় শিক্ষার্থীরা লাইন ধরে বিভিন্ন সাইবার ক্যাফে তে ভীড় করে। যেখানে প্রতি ফর্ম পূরণে বোকাসোকা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে আদায় করা হয় ৫০/১০০ টাকা। তারা নাকি SSC HSC তে ICT তে GPA5 পাওয়া ছাত্র। এই ICT বইটা এসব শিক্ষার্থীদের সামান্য একটা ফর্ম পূরণ করা শেখাতে পারেনা! এ ব্যর্থতার দায় কার?
`
নিজেদের কিছুদিনের মধ্যেই Digital Bangladesh বলে দাবী করতে চলেছি, কিন্তু দূঃখের বিষয়, দেশ ডিজিটাল হলেও, দেশের মানুষগুলোকে ডিজিটাল বানানোর কোনো চেষ্টা / উদ্যোগ আমার চোখে পড়েনা।
দেশের তরুণ প্রজন্মকে যদি একটুও প্রযুক্তি জ্ঞানে জ্ঞানান্বিত করার চেষ্টা এই বইগুলো করতো ;
~

তবে দুই দিন পরপর ফেসবুকের ” ফিশিং সাইট”এর ফাঁদে পড়া ছেলেগুলোর হাজার হাজার টাকা খোয়া যেতোনা।
Cryptocurrency তে লেনদেন করে তাদের লাখ লাখ টাকা চুরি গিয়ে অন্য দেশ পাচার হয়ে যেতোনা।

থাক ভাই, মাথায় এত চাপ নেয়ার দরকার নাই।পরিশেষে বলতে চাই স্কুল/কলেজের ঐ বইটা তৈরি করা হয়েছে নৈর্ব্যক্তিক আর সৃজনশীল এর উত্তর লিখার জন্য। প্রযুক্তিকে Explore করার জ্ঞান দেয়ার জন্য নয়। “কেন” বা “কিভাবে” এর উত্তর এর পাশাপাশি Cyber Security নিয়েও তরুণদের সতর্ক না করা হলে যতই Digital Bangladesh বলে গলা ফাটাই না কেনো, দিন শেষে আধা ডিজিটাল বাঙালিরা অজ্ঞই থেকে যাবে।

ও হ্যা – “বিকাশ”এর “একাউন্ট আপগ্রেডিং এর কাজ চলছে, পিন নাম্বার টি দিন।” নামক ইস্যুটা তো আজ জাতীয় ইস্যু!
এ বিষয় নিয়ে বেশি কিছু বলবোনা, জাস্ট আপনার কাছে প্রশ্ন রাখবো ; ” কখনো কি নিজেকে প্রশ্ন করেছেন, মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস তো আরো আছে। তবে শুধু বিকাশেই কেনো টাকা হাতিয়ে নেয়ার জালিয়াতি হয়?”

4 months ago (12:12 pm) 576 views
Report

About Author (71)

Author

নিজে শিখুন এবং অন্যকে শিখতে সাহায্য করুন

 

8 responses to “তৃপ্তির নয়, ক্ষোভের ঢেকুর (পর্ব ১)”

  1. Shahriar Ahmed Shovon Shahriar Ahmed Shovon
    Author
    says:

    আপনিও তো বললেন না কেন, কিভাবে!! নাকি শেখাতে চান না!

    • SAjid imon
      Author
      says:

      এটা শেখানোর দায়িত্ব সরকারের,যদি সমাধান দিয়ে দিই তবে আমার লাভ কি

      • Shahriar Ahmed Shovon Shahriar Ahmed Shovon
        Author
        says:

        হা হা হা!! অনেক হাসি লাগছে!! কিছু শেখানোর পরিবর্তে যদি লাভ খুঁজেন তাহলে আর এখানে কেন?? রাস্তায় থালা নিয়ে বসে যান, ফ্রিতে লাভ হবে!!😊

        • SAjid imon
          Author
          says:

          আগে বলুন আপনি লেখাটা পড়ে কি বুঝতে পারছেন ??

          • Shahriar Ahmed Shovon Shahriar Ahmed Shovon
            Author
            says:

            আমি এটুকুই বুঝেছি যে, “উচ্চমাধ্যমিক লেভেলে যা শেখায় সেটা খুবই নগণ্য। আপনার সাথে একমত। আরো, যেটুকু শেখায় সেটুকুই বিস্তারিত না”

Leave a Reply

You must be Logged in to post comment.

Related Posts

Copyright © WizBD.Com, 2018-2019