তারাবির নামাজ না পড়ে রোজা রাখলে কী রোজা হয়, দ্রুত তারাবির নামাজ আদায় করলে কী নামাজ হয়। বিস্তারিত আলোচনা সহিহ বুখারী থেকে
Search Any Post Of WizBD.Com
 HomeIslamic Postতারাবির নামাজ না পড়ে রোজা রাখলে কী রোজা হয়, দ্রুত তারাবির নামাজ আদায় করলে কী নামাজ হয়। বিস্তারিত আলোচনা সহিহ বুখারী থেকে

তারাবির নামাজ না পড়ে রোজা রাখলে কী রোজা হয়, দ্রুত তারাবির নামাজ আদায় করলে কী নামাজ হয়। বিস্তারিত আলোচনা সহিহ বুখারী থেকে

আসসালামু আলাইকুম

আশাকরি সবাই ভালো আছেন।
সবাই ভালো থাকেন ভালো রাখেন এই প্রত্যাশাই করি সব সময়।
বন্ধুরা আজ আমি আপনাদের সাথে কথা বলব দ্রুত তারাবীর নামজ কী আদায় করা যায়, আর তাড়াবীর নামাজ এটা মিস্ করলে কী রোজা হয় নাকি হয় না।
তো এই সম্পূর্ণ পোষ্ট আমি লিখেছি।
আর আমি লিখেছি বলে কেউ বলবেন না যে এটা ভুল কারণ আমি সহিহ বুখারি থেকে দেখে দেখে পোষ্ট লিখেছি।

প্রশ্নঃ-যে তারাবির নামাজ এটা কি সুন্নত নাকি এটা ফরজ এটা কি কেউ মিস করতে পারে কেউ


উত্তর:-এই প্রশ্নের ব্যাপারে যদি বলতে হয় যে হে তারাবী অথবা কিয়ামুল লাইল এটা কী রমজান মাসে ফরজ নাকি সুন্নত এর আগেও বলেছি আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন এটা আছে (সহীহ বুখারীতে খন্ড নাম্বার ৩, “book of তারাবি” হাদিস নাম্বার ২০১২”) এখানে বলা হয়েছে যে নবী রমজান মাসে মসজিদে কিয়ামুল লাইল পড়লেন আর লোক জনও তাঁর সাথে পড়লো। পরেরদিন খবর ছাড়ালো সেদিন নবী আসলেন এবং পুরো মসজিদে ভরা লোক। তৃতীয় দিনেও অনেক মানুষ আর চতুর্থ দিনে যদিও মসজিদে অনেক মানুষ। সেদিন নবী ইচ্ছে করে মসজিদে এলেন না কেয়ামুল লাইল আদায় করার জন্য।
ফজরের নামাজের সময় নাবী বললেন এমন না যে আমি জানতাম না মসজিদে অনেক লোক আছে তবে আমি ইচ্ছে করেই আসেনি কারণ আমি চাইনা রমজানের কিয়ামুল লাইল তোমাদের জন্য ফরজ করা হউক”। তাহলে এই হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি এই নামায ফরজ না। তবে আরেকটা হাদিস (সহিহ বুখারী খন্ড নাম্বার ৩ “book of তারাবি” হাদিস নাম্বার ২০০৯)
এখানে বলা হয়েছে যে যদি কেউ রমজান মাসে রাতের নামাজ আদায় করে ঈমানের সাথে আর আল্লার পুরস্কারের আশায় তার অতীতের সব গুনাহ মুছে দেওয়া হবে।
এই হাদীসের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি যদিও এটা ফরজ না তারপরও এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত “সুন্নতে মুয়াক্কাদা” তারমানে নবীজির সুন্নত গুরুত্বের সাথে সুপারিশ করা হয়েছে যদিও এটা ফরজ না। এটা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা খুব খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা সুন্নত। কোন মুসলামের এইটা মিস করা উচিত না যদি না খুবই গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ থাকে। তবে আমার মতে এটা আদায় করা উচিত। আল্লাহর কাছ থেকে পুরষ্কারের আশায় তাহলে আগের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।

প্রশ্ন ২ঃ- এবার আসা যাক দুইনাম্বার প্রশ্নে। অনেক মসজিদে দেখা যায় ইমামরা খুবই দ্রুত তারাবির নামাজ আদায় করেন এছাড়াও তারা খুব দ্রুত রুকু এবং সেজদা করে এভাবে নামাজ পড়ার কি কোনো অনুমতি আছে?


উত্তর:- ব্যাপারটা এখন অনেক মসজিদের দেখা যায় কারণ তারা রমজানে তারাবির নামাজের পুরো কুরআন শরীফ খতম দিতে চায় তারা তাড়াতাড়ি করে নামাজ শেষ করতে চায় তাই অনেক সময় দেখবেন যে তারা রুকু আর সেজদায় খুব অল্প সময় ব্যয় করে। অনেক মসজিদের দেখা যায় মুসল্লিরা প্রথম সিজদায় আছেন কিন্তু ইমাম দ্বিতীয় সিজদায় চলে গেছেন তাহলে এটা ঠিক না ভুল? এটা উল্লেখ আছে (সহীহ বুখারীতে খন্ড নাম্বার ১ “book of সালাহ” হাদিস নাম্বারঃ ৭৫৭) একবার আমাদের নবী মসজিদের ভেতরে গেলেন আরেক লোক নবীকে অনুসরণ করলো তারপর নামাজ পড়া শেষ হলে সেই লোক নবীকে সালাম দিল আসসালামুয়ালাইকুম নবি তাকে উত্তর দিয়ে বললেন তুমি আবার নামাজ পড়ো তোমার নামাজ আদায় করা হয়নি। সেই লোক আবার নামাজ পড়ে নবীর কাছে ফিরে আসলো নাবী তাকে বললেন তুমি আবার নামাজ পড়ো তুমি নামাজ পড়ো নি। সেই লোক তৃতীয়বারের মত নামাজ আদায় করল নাবী আবারও বললেন যাও নামাজ পড়ো তুমি নামাজ পরনি। তারপর সেই লোক বলল এরচেয়ে ভালো করে আমি নামাজ পড়তে পারবো না হে রাসূল আমাকে শেখান আমি কিভাবে নামাজ পড়বো। তখন নবী তাকে বললেন যে তুমি তাকবীর দেওয়ার পরে দাঁড়ানো অবস্থায় বিভিন্ন সূরা পরবে পবিত্র কুরআন থেকে যেগুলো অন্তর থেকে জানো যেগুলো কুরআন থেকে তুমি জানো সেগুলো পড়বে। তারপর তুমি রুকু করবে এবং রুকুতে গিয়ে তুমি প্রথমে সুস্তির হবে তারপর বলবে সকল প্রশংসা আল্লার “সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম” যতক্ষণ না সোজা দাঁড়িয়ে সুস্তির হও। তারপর তুমি সিজদায় যাবে শান্তভাবে যতক্ষণ না তুমি সুস্তির হও তারপর বলবে “সুবহানা রাব্বিয়াল আলা” সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি সবার উপরে সর্বনিম্ন তিনবার। তারপর তুমি উঠে বসবে যতক্ষণ না তুমি সুস্তির হও। এভাবে নামাজ পড়ে যাও।
তাহলে এই হাদীস থেকে আমরা জানতে পারি যে মসজিদগুলোতে বা মানুষরা তাড়াতাড়ি করে নামাজ আদায় করে তাদের নামাজ আদায় করা হয় না। তারমানে আপনি নামাজ পড়েন নি। তারমানে আপনি যদি খুব তাড়াতাড়ি তারাবির নামাজ পড়েন রুকু-সেজদা সহি ভাবে আদায় না করেন তাহলে ধরে নিবেন আপনি নামাজ পড়েন নি। তবে সবচেয়ে ভালো যদি আপনি ধীরে ধীরে পড়েন শান্তভাবে। তারাবী হবে লম্বা সময়ের। অন্য মসজিদের সাথে প্রতিযোগিতা করবেন না যে আজকে আমাদের তারাবির আগে শেষ হয়েছে। অনেক মসজিদ এরকম প্রতিযোগিতা করে যে কার আগে কে শেষ করবে।
.
তো আশাকরি সবাইকে বুঝাতে পেরেছি।
যেকোন সমস্যায়:-

সবাও ভালো থাকেন সুস্থ থাকেন আল্লাহ হাফেজ।

3 months ago (3:14 pm) 789 views

About Author (308)

wavatar
Administrator

{কোনো সময় বলনা যে তুমি কিছু জান না।} _________{You should never say you don't know.}

 

3 responses to “তারাবির নামাজ না পড়ে রোজা রাখলে কী রোজা হয়, দ্রুত তারাবির নামাজ আদায় করলে কী নামাজ হয়। বিস্তারিত আলোচনা সহিহ বুখারী থেকে”

Leave a Reply

You must be Logged in to post comment.

Related Posts

Copyright © WizBD.Com, 2018