Search Any Post Of WizBD.Com
 HomeAstronomyCeres-সেরেস || সৌরজগতের সবচেয়ে ছোট এবং রহস্যময় বামন গ্রহ

Ceres-সেরেস || সৌরজগতের সবচেয়ে ছোট এবং রহস্যময় বামন গ্রহ

WizBD.Com

আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে ছোট বামন গ্রহ হচ্ছে ceres(সেরেস).এটি মঙ্গল এবং বৃহস্পতির মাঝখানের অ্যাস্ট্রোয়েড বেল্টের মধ্যে অবস্থিত।এই বামন গ্রহটি সবচেয়ে ছোট হওয়ার সাথে সাথে অনেক বড় রহস্যও।

WizBD.Com

১ জানুয়ারী ১৮০১ সালে ইটালিয়ান অ্যাস্ট্রোনমার গোসেপ পিয়াজ্জি বামন গ্রহ সিরিসের অস্তিত্ব আবিষ্কার করেন।১৭৭২ সালে জন এলার্ট বোড সর্বপ্রথম বলেন যে মঙ্গল এবং বৃহস্পতির মধ্যে কোন না কোন গ্রহ রয়েছে,যেটাকে আমরা এখনো খুঁজে বার করতে পারিনি।
১৮০০ সালে ২৪ জন অভিজ্ঞ অ্যাস্ট্রোনমারকে নিয়ে একটি টিম তৈরী করা হয়,যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয় মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝখানে নতুন গ্রহ খোঁজার।এই টিম অনেকগুলো অ্যাস্ট্রোয়েড খুঁজে বার করে কিন্তু এমন কিছু খুঁজে বের করতে ব্যার্থ হয় যাকে গ্রহ বলা যায়।এরপর অ্যাস্ট্রোনমার গোসেপ পিয়াজ্জিকেও এই গ্রুপে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রন পাঠানো হয়।কিন্তু আমন্ত্রন পাওয়ার অনেক আগেই ১৮০১ সালের ১ জানুয়ারি গোসেপ এমন একটি বস্তু খুঁজে বের করেন যেটা দেখতে কোন নক্ষত্রের মতো ছিলো।উনি ঐ বস্তুকে ২৪ বার পর্যবেক্ষন করেন,কিন্তু ওনার মনে হয় এটি একটি ধুমকেতু।২৪ জানুয়ারী তিনি তার ২ সঙ্গী অ্যাস্ট্রোনমারদের একটি চিঠি লিখে তার এই আবিষ্কারের কথা জানান এবং বলেন যে ঐ বস্তু কোন ধুমকেতু না হয়ে গ্রহ ও হতে পারে।এটার পেছনে ওনার যুক্তি ছিলো ঐ বস্তুর মুভমেন্ট যা কোন গ্রহের মতে ধীর এবং ইউনিফর্ম ছিলো।এই বস্তুর নাম রোমান দেবীর নামানুসারে Ceres (সেরেস)রাখা হয়।

WizBD.Com

এরপর প্রায় ৫০ বছর পর্যন্ত ceres কে গ্রহ মনে করা হতো।কিন্তু যখন সিরিসের আসে পাশে অনেক ছোট ছোট বস্তুর খোঁজ পাওয়া যায় তখন স্যার উইলিয়াম হার্শেল একে অ্যাস্ট্রোয়েড বলে আখ্যায়িত করেন।তখন সবাই উইলিয়াম হার্শেলের এই মতবাদকে মেনে নেয়।কিন্তু তখনও গ্রহের কোন নির্দিষ্ট সংগা ছিলো না।

২০০৬ সালে প্লুটো বিবাদের কারনে ceres কে আবারো গ্রহ হিসেবে গণ্য করা হয়।কারন তখন পর্যন্ত গ্রহ হওয়ার ২ টি শর্ত ছিলো।

১.বস্তুটির কাছে এতো ভর থাকতে হবে যার কারনপ বস্তুটির আাকার প্রায় গোলাকার হয়ে যাবে।
২.বস্তুটিকে একটি নির্দিষ্ট তারাকে কেন্দ্র করে ঘোরতে হবে কিন্তু নিজে কোন নক্ষত্র অথবা অন্য কোন গ্রহের উপগ্রহ হলে চলবে না।

WizBD.Com

ceres এই শর্ত গুলো পূরন করে আবারো গ্রহের তালিকায় স্থান পায়।পরে ২৪ আগষ্ট ২০০৬ সালে এই শর্তগুলোর সাথে আরেকটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয় যে,কোন বস্তুকে তখনই গ্রহ হিসেবে গন্য করা হবে,যখন বস্তুটি এত ভর হবে যে তার নিজস্ব কক্ষপথ থাকবে।

WizBD.Com

এই ৩ নম্বর শর্তের কারনে ceres আবারো গ্রহের তালিকা থেকে বাদ পরে যায়।কারন কারন। ceres এর কক্ষপথে লক্ষলক্ষ অ্যাস্ট্রোয়েড ও সূর্যের চারিদিকে প্রদক্ষিণ করে।তাই ২৪ আগষ্ট ২০০৬ সালে ceres এবং pluto দুটোকেই গ্রহের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং তাদের জন্য নতুন ক্যাটাগরি “বামন গ্রহ” বানানো হয়।

WizBD.Com

Ceres আমাদের সবচেয়ে কাছের বামন গ্রহ।এটি সূর্য থেকে ৪১৩,৭০০,০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ceres পৃথিবীর ১৬৮০ দিন বা ৪.৬১ বছরে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিন করে।
ceres এ একদিন ৯ ঘন্টা ৪ মিনিটের হয়ে থাকে।
বামন গ্রহদের মধ্যে seres সবচেয়ে ছোট।এর ডায়ামিটার মাত্র ৯৫৯ কিলোমিটার।সম্পূর্ন অ্যাস্ট্রোয়েড বেল্টের একতৃতীয়াংশ ভরই শুধুমাত্র ceres এর,যা আমাদের চাঁদের ভরের ৪%.এর সার্ফিস এরিয়া আমাদের প্রতিবেশী ভারতের সার্ফিস এরিয়ার প্রায় সমান।

WizBD.Com

ceres অন্যান্য গ্রহদের মতো পাথুরে গ্রহ।এই পাথরের উপর বরফের অনেক মেটা আস্তরন রয়েছে।ধারনা করা হয় এই বরফের আস্তরন ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে,আর এর মধ্যে জমে আছে ২০০ মিলিয়ন কিউবিক কি.লি.পানি যা আমাদের পৃথিবীর পানযোগ্য পানির তুলনায় অনেক বেশী।এই বামন গ্রহের সার্ফিস আয়রন রিচ মিনারেলস,কার্বনেট মিনারেলস এবং অন্যান্য এমন হাইড্রেটেড মিনারেলস দ্বারা তৈরী যা এর ভিতরের দিকে পানি থাকার সংকেত দেয়।

WizBD.Com

ধারনা করা হয়,ceres ৪.৭ বিলিয়ন বছর আগে অ্যাস্ট্রোয়েড বেল্টের মধ্যেই তৈরী হয়েছিলো।Ceres এর পৃষ্টের তাপমাত্রা ৫ মে ১৯৬১ সালে -৩৮ মাপা হয়,যা বাকি অ্যাস্ট্রোয়েড এবং বামন গ্রহের তুলনায় অনেক বেশী।এই তাপমাত্রায় প্রাণের সৃষ্টি হতে পারে।

WizBD.Com

ceres এর উত্তর দিকের পৃষ্টে Organic Matter পাওয়া যায়,যা ceres এ প্রাণ থাকার সম্ভাবনাকে আরে বাড়িয়ে দেয়।
অনেক বিজ্ঞানী ধারনা করেছিলেন যে ceres এই প্রথম প্রাণের স্পন্দন সৃষ্টি হয় এবং পরে তা কোন মিটিউরাইডের মাধ্যমে পৃথিবীতে আসে।কিন্তু তাদের এই ধারনা ভুল প্রমানিত হয় যখন বিজ্ঞানীরা গবেষনা করে জানতে পারেন যে ceres থেকে কখনো কোন মিটিউরাইড পৃথিবীতে আসে নি।কিন্তু এটা এখনে রহস্য যে ceres এর গভীরে কি প্রাণের স্পন্দন আছে?
WizBD.Com
নাসা ২৭ সেপ্টেম্বর ২০০৭ সালে vesta এবং ceres এর উপর গবেষনার জন্য স্পেস মিশন “ডন” উৎক্ষেপন করে।

WizBD.Com

৬ মার্চ ২০১৫ সালে এটি ceres এর orbit এ পৌছে যায়।

WizBD.Com

ceres এ গবেষনা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা অনেক রহস্যময় white spot এবং dark spot আবিষ্কার করেন।

ceres আমাদের সৌরজগতের একমাত্র গ্রহ যার কোন উপগ্রহ নেই। ceres এর পৃষ্ট হতে প্রতি সেকেন্ডে ৬ কিলেগ্রাম ওয়েটারওয়েপার মহাশূন্যে উড়ে যায়,যার মানে প্রতি সেকেন্ডে ceres ভর ৬ কিলেগ্রাম কমে যাচ্ছে।
একসময় জিওলজিক্যালি ceres কে মৃত গ্রহ মনে করা হতে,কিন্তু আজ কম হলেও ceres জিওলজিক্যালি সক্রিয় গ্রহ।
যদি seres এর গভীরে অ্যামোনিক,সালফিউরিক এসিডের মতে এন্টি ফ্রীজ উপাদান থেকে থাকে তাহলে পুরে সম্ভাবনা রয়েছে যে ceres এ ও জীবন রয়েছে।আর এই সম্ভাবনাই আমাদের জন্য যতেষ্ট।এটা ভালো কথা যে আমরা ceres এর দিকে দৃষ্টি দিচ্ছি কারন আমরা ceres কে একটি মডেল হিসেবে বিবেচনা করে মহাশূন্যের অনেক রহস্য উন্মোচন করতে পারব।কিন্তু এখন পর্যন্ত ceres ই আমাদের কাছে অনেক বড় রহস্য।

নোট: বানান ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
আর মহাকাশ বিষয়ক,টেকনোলজি ইত্যাদি বিষয়ে নানা অজানা বিষয় জানতে WizBD র সাথে থাকুন।
লেখকঃ সুজয় বিশ্বাস সৌরভ।

তথ্যসূত্র: Wikipedia, Nasa, Youtube..

2 years ago (1:41 pm) 2731 views
Report

About Author (104)

Sourov
Administrator

Error 505

 

8 responses to “Ceres-সেরেস || সৌরজগতের সবচেয়ে ছোট এবং রহস্যময় বামন গ্রহ”

  1. JS Masud JS Masud
    Administrator
    says:

    অবাক করার মতো।

  2. JD JD
    Administrator
    says:

    বাহ। অনেককিছু জানলাম।

Leave a Reply

You must be Logged in to post comment.

Related Posts

Copyright © WizBD.Com, 2018-2019